গাজায় বুধবার ভোর থেকে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় ৭৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে গাজা সিটিতেই নিহত হয়েছেন ৪৭ জন। ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় বুধবার (১ অক্টোবর) থেকে ভোর শুরু হওয়া ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় কমপক্ষে ৭৩ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে গাজা সিটিতেই নিহত হয়েছেন ৪৭ জন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব উত্থাপনের পরও ইসরাইলি বাহিনী গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ ও ফিলিস্তিনি বেসামরিক জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে তাদের হামলা অব্যাহত রেখেছে। এদিকে হামাস এই প্রস্তাব মেনে নেবে কি-না, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চিয়তা রয়েছে। বুধবার আল-ফালাহ স্কুলে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। স্কুলটি গাজা সিটির পূর্বে জেইতুন এলাকায় শত শত বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়স্থল। ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যাওয়ার সাথে সাথে সেখানে আরেকটি আক্রমণ চালানো হয়। তাদের অনেকেই গুরুতর আহত হন। এর মধ্যে মুনথার আল-দাহশানও নামের এক কর্মী পরে মারা যান।
আল-আহলি আরব হাসপাতালের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এ হামলায় ছয়জন নিহত এবং আরো অনেকে আহত হয়েছেন। এছাড়াও দারাজ এলাকায় একটি বাড়িতে ইসরাইলি হামলায় কমপক্ষে সাতজন নিহত হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব জেইতুন এলাকায় আরো একটি শিশু নিহত হয়েছে।
গাজা সিটির উপর ক্রমাগত বোমাবর্ষণে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের বৃহত্তম নগর কেন্দ্রটি ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রতিদিনই সেখানে কয়েক ডজন মানুষ নিহত হচ্ছে, অসংখ্য আবাসিক ভবনসহ স্কুল ধ্বংস হচ্ছে। হাজার হাজার ফিলিস্তিনি দক্ষিণে পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে, পথেও তারা হামলার শিকার হচ্ছেন।
এর মধ্যেই আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি) বুধবার জানিয়েছে, তারা গাজা সিটিতে তাদের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। গত সপ্তাহে এনজিও ডক্টরস উইদাউট বর্ডারসও (এমএসএফ) একই ঘোষণা দিয়েছিল।
সূত্র : আল জাজিরা
(মাহবুবুল ইসলাম)