মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন জয়ের মধ্য দিয়ে আগামী ২০ জানুয়ারি ফের হোয়াইট হাউজে ফিরছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন জয়ের মধ্য দিয়ে আগামী ২০ জানুয়ারি ফের হোয়াইট হাউজে ফিরছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ পরিপ্রেক্ষিতে আলোচনায় যেসব বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য অভিবাসী নীতি। অভিবাসন বিষয়ে ট্রাম্প বরাবরই কঠোরতা দেখিয়ে এসেছেন। নির্বাচনী প্রচারণায় গণহারে অভিবাসীদের অন্যত্র সরিয়ে দেয়ার প্রসঙ্গও টেনেছেন তিনি। এ পরিস্থিতিতে দুশ্চিন্তায় কাটছে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসীদের। পাশাপাশি নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ও তার মিত্রদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সম্ভাব্য বিষয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে অভিবাসীদের অধিকারবিষয়ক সংগঠনগুলো। খবর আল জাজিরা।স্টিফেন মিলার ও টম হোম্যানের মতো কঠোর নীতিনির্ধারকদের গুরুত্বপূর্ণ অভিবাসন ভূমিকার জন্য বেছে নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর পরও যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলেছে যে তারা অভিবাসীদের জন্য কাজ চালিয়ে যাবে। তবে নতুন প্রশাসনের অধীনে তাদের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।অভিবাসী অধিকার সংগঠন আল ওত্রো লাদোর পরিচালক এরিকা পিনহেইরো বলেন, ‘(ট্রাম্পের) প্রথম মেয়াদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হবে বলেই আমি আশা করছি। আমি মনে করি, রাজনৈতিক নিপীড়ন আরো খারাপ পর্যায়ে যাবে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো পূর্বপরিকল্পিত অন্যায় আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে।’সাক্ষাৎকার, নির্বাচনী প্রচারণার বক্তৃতা এবং ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টাদের প্রস্তাব থেকে অনুমান করা যায় যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে বড় আকারের নির্বাসন অভিযান ও জন্মগত নাগরিকত্বের মতো দীর্ঘ প্রতিষ্ঠিত অধিকারের চ্যালেঞ্জ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো বলছে, তারা এ ধরনের প্রচেষ্টাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত। তারা স্বীকার করে নিয়েছে যে নির্বাচনে জয় ও কংগ্রেসে রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে অভিবাসন নিয়ে লড়াই থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতার মাধ্যমে দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসন শক্তিশালী হবে।
বেশ কয়েকটি অভিবাসী অধিকার গোষ্ঠী আল জাজিরাকে জানিয়েছে, দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্পের সমস্ত পরিকল্পনা পরিষ্কার না হলেও তারা সবাই একটি বিষয়ে একমত। তা হলো জানুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট মূল মনযোগ হবে দেশটিতে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক অনিবন্ধিতদের গ্রেফতার ও নির্বাসনে পাঠানোর পক্ষে প্রচার চালানো।
উপদেষ্টা মিলার মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক লাখ অনিবন্ধিত অভিবাসী থাকতে পারে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মার্কিন অভিবাসন ও সীমান্ত নীতির সহযোগী পরিচালক ভিকি গাউবেকা বলেন, ‘তাকে (ট্রাম্প) তার প্রথম মেয়াদের চেয়ে অনেক বেশি প্রস্তুত মনে হচ্ছে। তিনি বারবার বলেছেন যে তার প্রথম দিনের এজেন্ডা হবে গণনির্বাসন পরিচালনা করা। তাই আমরাও সে রকমটাই আশঙ্কা করছি। এত বড় আকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসন কীভাবে প্রয়োজনীয় সম্পদ জোগাড় করবে, তা দেখার বিষয়।’
বেশ কয়েকজন মানবাধিকার কর্মী ও সংস্থা উদ্বিগ্ন যে সীমান্তে অভিবাসীদের সহায়তা ও অনিবন্ধিত ব্যক্তিদের সমর্থন করা ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে।
অ্যারিজোনার টুকসনের কাছে সীমান্তের উভয় পাশে কাজ করা মানবাধিকার কর্মী ডোরা রদ্রিগেজ আল জাজিরাকে বলেছেন, ‘আমরা সন্ত্রাসী নই, আমরা অনিয়মিত অভিবাসনকে উৎসাহিত করছি না। আমরা মানুষকে সাহায্য করার এবং জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করছি। মরুভূমিতে পানি ফেলা অপরাধ নয়। মানবিক সহায়তা কোনো অপরাধ নয়।’
(মাহফুজুল ইসলাম)