গাঁজা গাছ থেকে প্রাপ্ত দুটি প্রাকৃতিক যৌগ (ক্যানাবিনয়েড)—ক্যানাবিডিয়ল (CBD) ও ক্যানাবিডিভ্যারিন (CBDV)—প্রাণঘাতী ছত্রাক প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য কার্যকারিতা দেখিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার ম্যাককোয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, এই যৌগ দুটি ‘ক্রিপ্টোকক্কাস নিওফরমানস’ নামের একটি মারাত্মক ছত্রাকের বৃদ্ধিকে বন্ধ করতে পারে।
এই ছত্রাকটি মানুষের মস্তিষ্কে সংক্রমণ ঘটিয়ে প্রাণঘাতী মেনিনজাইটিস (মস্তিষ্কের আস্তরণে সংক্রমণ) তৈরি করতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তালিকাভুক্ত অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত এই ছত্রাকটির বিরুদ্ধে বর্তমানে কার্যকর ও দ্রুত ফলদায়ী ওষুধ খুবই সীমিত। গবেষক দল বলছে, গাঁজার এই দুটি উপাদান প্রচলিত ছত্রাকনাশী ওষুধের তুলনায় অনেক দ্রুত কাজ করেছে।
শুধু তাই নয়, গবেষণায় আরও দেখা গেছে, এই ক্যানাবিনয়েডগুলো ত্বকে সংক্রমণ সৃষ্টিকারী সাধারণ ছত্রাকগুলোকেও ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে—যেমন অ্যাথলেটস ফুট (পায়ের ছত্রাক সংক্রমণ)। প্রকাশিত গবেষণাটি ‘The Journal of Neglected Tropical Diseases (PLOS NTDs)’–এ ছাপা হয়েছে এবং এটি ছত্রাক সংক্রমণের নতুন ও কার্যকর চিকিৎসা উদ্ভাবনে আশার আলো জাগিয়েছে।
বিশ্বজুড়ে বছরে প্রায় এক বিলিয়ন মানুষ ছত্রাক সংক্রমণে আক্রান্ত হন। যার মধ্যে রয়েছে ত্বকের সংক্রমণ, ইস্ট ইনফেকশন বা ফুসফুসের মারাত্মক সংক্রমণ। কার্যকর ও নিরাপদ ওষুধের অভাবে এই সংক্রমণগুলো অনেক সময় প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।
গবেষক দলের নেতৃত্বে ছিলেন ম্যাককোয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক বিজ্ঞান বিভাগের গবেষক ড. হুয়েই দিন। তার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মেডিকেল স্কুলের সহযোগী অধ্যাপক অ্যামি কেইন, প্রফেসর মার্ক কনার ও ড. মারিনা সান্তিয়াগো। এছাড়া সিডনি ও নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরাও অংশ নেন এই যৌথ গবেষণায়।
ড. দিন বলেন, নতুন ওষুধ বাজারে আনতে অনেক সময় ও খরচ লাগে। তাই আমরা এমন উপাদান নিয়ে কাজ করেছি, যেগুলো ইতিমধ্যেই মানব শরীরে ব্যবহারের জন্য নিরাপদ হিসেবে স্বীকৃত। প্রফেসর কনার বহুদিন ধরে গাঁজাজাত উপাদানের ওপর গবেষণা করছেন। তিনি বলেন, গাঁজা গাছে শত শত প্রাকৃতিক যৌগ রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে কোনটা কাজ করবে, তা বেছে নেওয়াই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।
এই গবেষণা ভবিষ্যতে গাঁজাজাত যৌগ ব্যবহার করে নিরাপদ, দ্রুত ও কার্যকর ছত্রাকবিরোধী ওষুধ তৈরির পথ দেখাতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। এই আবিষ্কার ছত্রাক সংক্রমণের বিরুদ্ধে একটি নতুন আশার দ্বার খুলে দিয়েছে।(মিসবাহ উদ্দিন)