রামুতে প্রাণনাশের উদ্দেশে চাচা-ভাতিজাকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি এখনো গ্রেফতার হয়নি। বরং অভিযোগ উঠেছে পরোয়ানাভুক্ত ওই আসামির কাছ থেকে মোটা অংকের ঘুস নিয়ে উলটো ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধেই চাঁদাবাজি মামলায় আদালতে মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কামাল হোসেন। এ ঘটনায় শনিবার ভুক্তভোগী জিটু বড়ুয়া তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রতিকার চেয়ে কক্সবাজার পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। ভুক্তভোগী জিটু বড়ুয়া উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের হাজারীকুল গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জানান, ২৪ জুন খোকন বড়ুয়ার নেতৃত্বে একদল ভাড়াটে সন্ত্রাসী তাকে ও তার বাবাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এ ঘটনায় দুদিন পর তিনি থানায় খোকন বড়ুয়াসহ তিনজনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলার ২ ও ৩নং আসামি জামিন পেলেও প্রধান আসামি খোকন বড়ুয়া এখনো পলাতক। এদিকে পালটা প্রতিশোধ নিতে খোকন বড়ুয়া পাঁচ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে জিটু ও তার বাবার বিরুদ্ধে আদালতে আরেকটি মামলা করেন। দুই মামলারই তদন্তভার পান এসআই মো. কামাল হোসেন। জিটু বড়ুয়ার অভিযোগ, চাঁদাবাজি মামলায় প্রতিবেদন দেওয়ার কথা বলে তার কাছে এক লাখ টাকা ঘুঘ দাবি করেন এসআই কামাল হোসেন। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তড়িঘড়ি করে তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলায় মিথ্যা প্রতিবেদন দেন। সে প্রতিবেদনে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির কথাও উল্লেখ করা হয়, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে জানান জিটু বড়ুয়া। জিটুর বাবা শিবু বড়ুয়াও অভিযোগ করেন, পরোয়ানাভুক্ত আসামি খোকন বড়ুয়াকে আটক না করে এসআই কামাল তার কাছ থেকে ঘুস নিয়ে উলটো আমাদের বিরুদ্ধেই প্রতিবেদন দিয়েছেন। এলাকাবাসী জানান, বাড়ির জমি নিয়ে বিরোধ থেকে হামলা হয়েছিল কিন্তু চাঁদা দাবির কোনো ঘটনা ঘটেনি। এটি সম্পূর্ণ সাজানো নাটক। অভিযুক্ত এসআই মো. কামাল হোসেন বলেন, আমি খোকন বড়ুয়ার সঙ্গে ফোনে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত জেনেছি। তবে কেন পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে আটক করা হয়নি-এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, খোকনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা আছে, তা আমি আগে জানতাম না। ঘুসের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, দুটি মামলার প্রতিবেদনই আদালতে পাঠানো হয়েছে। কক্সবাজার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফউদ্দীন শাহীন বলেন, লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
(মাহবুবুল ইসলাম)