চারদিকে পানি, তবু তৃষ্ণার্ত মানুষ: নিরাপদ পানির জন্য হাহাকার মুন্সীগঞ্জে

সামনে নদী, পাশে খাল, চারদিকে অসংখ্য পুকুর। বর্ষাকালে আকাশ ভেঙে বৃষ্টিও নামে। তবু এক কলসি নিরাপদ পানির জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয় সুন্দরবনের কোলঘেঁষে থাকা সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নের মানুষের।

এখানকার মানুষের কাছে তাই খাবারের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা। তাদের কণ্ঠে শোনা যায় একটাই দাবি, ‘আমাদের খাবারের দরকার নেই, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করুন।’

কথাটি শুনতে অবাক লাগলেও উপকূলের এই জনপদের বাস্তবতা এমনই। চারপাশে পানি থাকলেও তার বড় একটি অংশ লবণাক্ত। নদীর পানি পান করা যায় না, অনেক পুকুরের পানিও লবণাক্ততা ও দূষণের কারণে ব্যবহার অনুপযোগী। ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভর করেও সহজে মিলছে না সমাধান।

পানির দেশেই পানির সংকট

সাতক্ষীরার সর্বদক্ষিণের উপজেলা শ্যামনগর। আর এই উপজেলার দক্ষিণ প্রান্তের ইউনিয়নগুলোর একটি মুন্সীগঞ্জ। একদিকে সুন্দরবন, অন্যদিকে নদী আর চিংড়ির ঘের। মানুষের জীবিকা মূলত এই প্রকৃতিকে ঘিরেই।

কেউ সুন্দরবনে গিয়ে মধু সংগ্রহ করেন, কেউ নদীতে মাছ ও কাঁকড়া ধরেন। অনেকে চিংড়ির ঘেরে কাজ করেন, আবার কেউ দিনমজুরি করে সংসার চালান।

কিন্তু সমুদ্রের কাছাকাছি অবস্থান এই জনপদের জন্য যেমন প্রাকৃতিক সম্পদের সুযোগ তৈরি করেছে, তেমনি তৈরি করেছে বড় ঝুঁকি। জোয়ারের সঙ্গে নদীতে ঢুকে পড়া লবণাক্ত পানি বিভিন্ন সময়ে বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে প্রবেশ করে। একবার লোনা পানি পুকুর, জমি কিংবা বসতভিটায় ঢুকে পড়লে সেই ক্ষতি সহজে কাটিয়ে ওঠা যায় না।

ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষত এখনো শুকায়নি

দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের মানুষের জীবনে ঘূর্ণিঝড় নতুন কোনো ঘটনা নয়। সিডর, আইলা, আম্ফান ও ইয়াসের মতো একের পর এক দুর্যোগ এ অঞ্চলের জীবন ও জীবিকার ওপর বড় আঘাত হেনেছে।

এর মধ্যে ২০০৯ সালের আইলার ক্ষত এখনো মানুষের স্মৃতিতে স্পষ্ট। জলোচ্ছ্বাসে বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা লবণাক্ত পানিতে তলিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় পানিবন্দি থাকার পর পানি নেমে গেলেও রেখে যায় অন্য এক সংকট।

অনেক মিষ্টি পানির পুকুরে ঢুকে যায় লবণাক্ত পানি। সেই পানি দীর্ঘদিন ব্যবহার করায় পানির উৎসগুলোর স্বাভাবিকতা নষ্ট হয়ে যায়। কোথাও কোথাও বহু বছর পরও আগের মতো মিষ্টি পানি ফিরে আসেনি।

চিংড়ি চাষও বাড়িয়েছে লবণাক্ততা

উপকূলের অর্থনীতিতে বাগদা চিংড়ির বড় ভূমিকা রয়েছে। আশির দশক থেকে রপ্তানিমুখী চিংড়ি চাষের বিস্তার ঘটে এ অঞ্চলে। চিংড়ি চাষের জন্য লবণাক্ত পানি প্রয়োজন হওয়ায় নদী থেকে লোনা পানি ঘেরে ঢোকানোর প্রবণতা বাড়ে।

চিংড়ি অনেকের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন করলেও এর পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন রয়েছে। লোনা পানি কৃষিজমিতে ঢোকার ফলে অনেক জায়গায় ধান ও অন্যান্য ফসল উৎপাদন কঠিন হয়ে পড়েছে। কমেছে মিষ্টি পানির উৎসও।

ফলে একদিকে চিংড়ি ঘের বাড়ছে, অন্যদিকে কৃষিজমি ও মিষ্টি পানির ওপর চাপ বাড়ছে। এর প্রভাব শুধু কৃষিতে নয়, স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও পড়ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনে পরিস্থিতি আরও কঠিন

উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধির পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের প্রবণতা এবং শুষ্ক মৌসুমে মিঠা পানির প্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশ বাড়ছে।

শুষ্ক মৌসুমে পরিস্থিতি সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। নদীর পানি তখন আরও লবণাক্ত হয়ে যায়। ফলে সেচ থেকে শুরু করে গৃহস্থালির বিভিন্ন কাজেও সেই পানি ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়ে।

ভূগর্ভস্থ পানিও সব জায়গায় নিরাপদ নয়। কোথাও লবণাক্ততা, কোথাও আবার আর্সেনিক ও আয়রনের উপস্থিতি রয়েছে। ফলে গভীর নলকূপ স্থাপন করলেই যে নিরাপদ পানি পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তাও নেই।

পানি সংগ্রহে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি নারীদের

পানির এই সংকটের সবচেয়ে বড় চাপ পড়ে নারীদের ওপর। পরিবারের জন্য পানির ব্যবস্থা করার দায়িত্ব অনেক ক্ষেত্রেই তাদের কাঁধে।

ভোর হওয়ার আগেই কলসি কিংবা পানির পাত্র নিয়ে বের হতে হয় অনেক নারীকে। কোনো কোনো পরিবারকে কয়েক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পানি সংগ্রহ করতে হয়। কোথাও যেতে হয় পায়ে হেঁটে, কোথাও নৌকায়।

দিনে একাধিকবার এই যাতায়াত করতে গিয়ে দিনের বড় একটি অংশ চলে যায় শুধু পানি সংগ্রহে।

এই কাজের শারীরিক চাপও কম নয়। ভারী পানির পাত্র বহন করতে গিয়ে কোমর ও ঘাড়ের ওপর চাপ পড়ে। গর্ভবতী নারী কিংবা বয়স্কদের জন্য কাজটি আরও কষ্টকর।

দূরের জায়গা থেকে পানি আনতে গিয়ে নিরাপত্তার বিষয়টিও সামনে আসে। দীর্ঘ সময় ধরে পানির লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা কিংবা দূরের কোনো উৎসে যাতায়াতও অনেকের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করে।

পানির জন্য স্কুলে অনিয়মিত শিশুরা

পানি সংকটের প্রভাব পড়ছে শিশুদের জীবনেও। পরিবারের পানির চাহিদা পূরণে অনেক শিশুকেই মায়ের সঙ্গে পানি সংগ্রহে যেতে হয়।

বিশেষ করে কিশোরীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুতর। পানির জন্য দীর্ঘ সময় ব্যয় হওয়ায় তাদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটে। নিয়মিত স্কুলে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিক্ষাজীবনও থেমে যায়।

পানি সংকট তাই শুধু স্বাস্থ্য বা দৈনন্দিন জীবনযাপনের সমস্যা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে শিক্ষা, নারীস্বাস্থ্য, বাল্যবিবাহ ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের মতো বিষয়ও।

বর্ষায় স্বস্তি, শুষ্ক মৌসুমে চরম দুর্ভোগ

মুন্সীগঞ্জের মানুষের কাছে বৃষ্টি যেন এক ধরনের আশীর্বাদ। বর্ষা এলেই অনেক পরিবার বাড়ির ছাদ থেকে বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করে রাখে। ট্যাংক, ড্রাম, কলসি কিংবা অন্য পাত্রে ধরে রাখা হয় সেই পানি।

বর্ষাকালে পানির সংকট কিছুটা কমে আসে। কিন্তু এই স্বস্তি স্থায়ী নয়।

শুষ্ক মৌসুম শুরু হলে মজুত পানি দ্রুত ফুরিয়ে যায়। পুকুরের পানির স্তর কমে আসে, অনেক জায়গায় পানি আরও লবণাক্ত হয়ে ওঠে। তখন নিরাপদ পানির জন্য আবার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়।

অর্থাৎ এই অঞ্চলে পানির সংকট মূলত সারা বছর সমান নয়। বর্ষায় পানির প্রাচুর্য থাকলেও তা সংরক্ষণ করা না গেলে শুষ্ক মৌসুমে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

সামর্থ্যবানরা কেনেন, দরিদ্ররা কী করবেন?

যাদের আর্থিক সামর্থ্য আছে, তারা টাকা দিয়ে পানি কিনে নেন। ভ্যান কিংবা নৌকায় করে বিভিন্ন জায়গা থেকে পানি এনে বিক্রি করা হয়।

কিন্তু দরিদ্র পরিবারের জন্য নিয়মিত পানি কেনা বড় ধরনের বাড়তি খরচ। সংসারের খাবার, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটানোর পর নিরাপদ পানির জন্য আলাদা টাকা রাখা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না।

ফলে কেউ কেউ বাধ্য হয়ে অপেক্ষাকৃত অনিরাপদ উৎসের ওপর নির্ভর করেন। আর সেখান থেকেই তৈরি হয় স্বাস্থ্যঝুঁকি।

লবণাক্ত পানি বাড়াচ্ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

দীর্ঘদিন লবণাক্ত পানি পান ও ব্যবহারের ফলে মানুষের স্বাস্থ্যের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এর সঙ্গে হৃদরোগ, কিডনি সমস্যা ও স্ট্রোকের মতো জটিলতার সম্পর্ক রয়েছে।

উপকূলীয় এলাকার নারীদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি উদ্বেগের। বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ ও উচ্চ রক্তচাপ নানা ধরনের জটিলতা তৈরি করতে পারে।

অন্যদিকে দূষিত পানি ব্যবহারে ডায়রিয়া, আমাশয়সহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে। শিশুদের ওপর এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি।

একটি পরিবারে কেউ অসুস্থ হলে চিকিৎসার খরচ বাড়ে, কর্মক্ষমতা কমে যায়। ফলে পানি সংকট ধীরে ধীরে একটি স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক সংকটেও পরিণত হয়।

পানি সংকট বদলে দিচ্ছে জীবিকাও

লবণাক্ততার কারণে কৃষি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক পরিবারকে বিকল্প জীবিকার সন্ধান করতে হচ্ছে। কেউ চিংড়ি ঘেরে কাজ করছেন, কেউ মাছ ধরছেন, আবার কেউ জীবিকার জন্য সুন্দরবনের ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন।

সুন্দরবনে যাওয়ার সঙ্গে রয়েছে বাঘ, ঝড় ও অন্যান্য ঝুঁকি। তারপরও জীবিকার তাগিদে মানুষকে সেখানে যেতে হয়।

কাজের সুযোগ কমে গেলে অনেকে পরিবার নিয়ে অন্য এলাকায় চলে যাচ্ছেন। খুলনা, ঢাকা কিংবা দেশের অন্যান্য শহরে গিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করার চেষ্টা করছেন তারা।

বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের সঙ্গে এই ধরনের স্থানান্তরের সম্পর্ক ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

সমাধানের পথ কি নেই?

আছে, তবে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।

মুন্সীগঞ্জের মতো এলাকায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণকে আরও বড় পরিসরে নেওয়া যেতে পারে। শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়ে ট্যাংক নয়, পাড়া ও ইউনিয়নভিত্তিক বড় জলাধার তৈরি করা গেলে বর্ষার পানি দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহার করা সম্ভব।

সংরক্ষিত মিষ্টি পানির পুকুরের সংখ্যা বাড়ানো এবং পুরোনো পুকুরগুলো পুনঃখননও জরুরি। পুকুরের পানি যাতে লবণাক্ত হয়ে না যায়, সে জন্য সুরক্ষার ব্যবস্থাও করতে হবে।

যেসব পানি শোধনাগার বা প্লান্ট ইতিমধ্যে স্থাপন করা হয়েছে, সেগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শুধু প্রকল্পের সময় প্লান্ট বসিয়ে দিলেই সমস্যার সমাধান হয় না। বিদ্যুৎ, যন্ত্রপাতি, পরিচালনা এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

লবণাক্ত পানি পরিশোধনের প্রযুক্তিকে আরও সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করাও গুরুত্বপূর্ণ। সৌরশক্তিচালিত পানি শোধনাগারসহ কম খরচের প্রযুক্তি উপকূলের জন্য কার্যকর হতে পারে।

সমস্যার শিকড়ে যেতে হবে

তবে শুধু পানি সরবরাহ করলেই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হবে না। কেন বারবার মিষ্টি পানির উৎস নষ্ট হচ্ছে, সেই প্রশ্নের উত্তরও খুঁজতে হবে।

ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস ঠেকাতে টেকসই বেড়িবাঁধ প্রয়োজন। লবণাক্ত পানির অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ বন্ধ করতে হবে। কোথায় কী ধরনের চিংড়ি চাষ হবে, কোথায় কৃষি ও মিষ্টি পানির উৎস সংরক্ষণ করা হবে, সেই বিষয়ে কার্যকর পরিকল্পনা দরকার।

একই সঙ্গে উপকূলীয় এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা আরও শক্তিশালী করা জরুরি। উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি রোগ ও গর্ভকালীন জটিলতার মতো সমস্যাগুলো শনাক্ত করতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সহজলভ্য চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকা দরকার।

স্কুল, মাদ্রাসা, কমিউনিটি ক্লিনিক ও আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতেও নিরাপদ পানির স্থায়ী ব্যবস্থা থাকা উচিত। কারণ শিশুদের শিক্ষা এবং মানুষের মৌলিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার সঙ্গে নিরাপদ পানির সম্পর্ক সরাসরি।

চারপাশের পানি, তবু এক ফোঁটা নিরাপদ পানির অপেক্ষা

মুন্সীগঞ্জের গল্প আসলে পানির অভাবের গল্প নয়। এটি নিরাপদ পানির অভাবের গল্প।

নদী আছে, খাল আছে, পুকুর আছে। বর্ষায় আকাশ থেকেও বিপুল পানি নামে। কিন্তু লবণাক্ততা, দূষণ, দুর্যোগ এবং অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার কারণে সেই পানির বড় অংশ মানুষের তৃষ্ণা মেটাতে পারছে না।

যে মানুষগুলো সুন্দরবন ও উপকূলের প্রকৃতিকে বাঁচিয়ে নিজেদের জীবন চালিয়ে যাচ্ছেন, তাদেরই প্রতিদিন নিরাপদ পানির জন্য লড়াই করতে হচ্ছে।

তাই তাদের চাওয়া খুব বেশি কিছু নয়। খাবারের পাশাপাশি এমন এক ব্যবস্থা, যেখানে দিনের পর দিন কয়েক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এক কলসি পানি আনতে হবে না। যেখানে বৃষ্টির পানি কয়েক মাস পর ফুরিয়ে গেলে পরিবারের সামনে অনিশ্চয়তা তৈরি হবে না। যেখানে একটি শিশুর স্কুলে যাওয়া নির্ভর করবে তার বাড়ির পানির কলসি ভরা আছে কি না, তার ওপর নয়।

মুন্সীগঞ্জের মানুষের কণ্ঠে তাই যে দাবি সবচেয়ে জোরালো হয়ে উঠছে, সেটি খুব সাধারণ: নিরাপদ পানি চাই।

আর এই দাবি শুধু তৃষ্ণা মেটানোর দাবি নয়। এটি স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জীবিকা এবং একটি স্বাভাবিক জীবনের অধিকার ফিরে পাওয়ার দাবি।

রিপোর্ট করেছেনঃ মাহফুজুল ইসলাম।