এনগুমোয়ার খেলার ধরণ বেশ ব্যতিক্রমী। চিরাচরিত প্লে-মেকার নন তিনি। বলের ওপর সবসময় দখলও চান না। বরং অফ দ্য বল মুভমেন্টে বেশ পরিপক্বতা দেখিয়েছেন। এমন জায়গায় চলে যেতে পছন্দ করেন তিনি যেখানে প্রতিপক্ষকে একা পেয়ে ওবদলি হিসেবে মাঠে নেমে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ের দশম মিনিটে নাটকীয় জয়সূচক গোল! লিভারপুলের জার্সিতে ফুটবল বিশ্বে নিজের আগমন বার্তা জানিয়ে দিলেন রিও এনগুমোয়া। মাত্র ১৬ বছর ৩৬১ দিন বয়সে এনগুমোয়া শুধু লিভারপুলের ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হিসেবেই নয়, বরং প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে চতুর্থ সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবেওএ গ্রীষ্মের দলবদলের বাজারে লিভারপুলের ২০০ মিলিয়ন পাউন্ডেরও বেশি খরচ করা অনেককেই নড়েচড়ে বসতে বাধ্য করেছে। আলেক্সান্ডার ইসাকের দলবদল নিয়ে নিউক্যাসলের সঙ্গে লিভারপুলের ঠান্ডাযুদ্ধ যখন তুঙ্গে, সেরকম এক সময়ে প্রিমিয়ার লিগে দুই ক্লাবের দ্বৈরথে বাতাসে বারুদের ঘ্রাণ খুঁজে পেলেও অবাক হওয়ার কিছু ছিল না। সেই ম্যাচ রূপ নিল থ্রিলারে। অতিরিক্ত সময়েরও শেষ প্রান্তে এনগুমোয়ার জাল খুঁজে পাওয়া যেন একইসঙ্গে অনেক মাত্রা দিল অলরেডদের জয়ে। নিজের নাম লেখালেন।য়ান ভার্সেস ওয়ান লড়াইয়ে জিপ্রতিশ্রুতিশীল অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে যুব ফুটবলের অঙ্গনে এনগুমোয়ার নাম দীর্ঘদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল। গত জানুয়ারিতে অ্যাকরিংটন স্ট্যানলির বিপক্ষে এফএ কাপে সুযোগ পেয়ে তিনি লিভারপুলের হয়ে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে (১৬ বছর ১৩৫ দিন) মাঠে নেমেছিলেন। ম্যাচটিই ছিল সেন্ট জেমস পার্কে তার এই ঐতিহাসিক গোল করার আগে মূল দলে একমাত্র উপস্থিতি।
এনগুমোয়ার খেলার ধরণ বেশ ব্যতিক্রমী। চিরাচরিত প্লে-মেকার নন তিনি। বলের ওপর সবসময় দখলও চান না। বরং অফ দ্য বল মুভমেন্টে বেশ পরিপক্বতা দেখিয়েছেন। এমন জায়গায় চলে যেতে পছন্দ করেন তিনি যেখানে প্রতিপক্ষকে একা পেয়ে ওয়ান ভার্সেস ওয়ান লড়াইয়ে জিতে যেতে পারেন।
এনগুমোয়ার প্রধান শক্তি তার ড্রিবলিং ক্ষমতা। গত মৌসুমে যুব পর্যায়ে প্রতি খেলায় তার ড্রিবলিং হার ১০-এরও বেশি, যে পরিসংখ্যান এই বয়সের একজন খেলোয়াড়ের জন্য অনেকটাই অভাবনীয়। শারীরিক গঠন খুব বেশি না (৫ ফুট ৭ ইঞ্চি)। তবে প্রিমিয়ার লিগে মানিয়ে নেয়ার জন্য তিনি যথেষ্ট শক্তিশালী এবং ডুয়েল লড়তেও ভয় পান না। দ্রুত গতিতে দৌড়ানোর পাশাপাশি বল পায়ে তার গতি আরো বেড়ে যায়। এই বৈশিষ্ট্যের জন্য প্রতিপক্ষ তাকে ভয় পেতেই পারে। তার ফুটবলিং আইকিউ ও বডি কন্ট্রোলের দক্ষতাও দারুণ। তাছাড়া, দূরপাল্লার শট বেশ পছন্দ অলরেডদের কোচ আরনে স্লটের। সেখানেও দক্ষতা বেশ ভালোই এই তরুণের।
তবে কখনো কখনো তার আত্মবিশ্বাস যে একটু বেশিই হয়ে যায়, সেটাও ধরা পড়েছে নিউক্যাসলের বিরুদ্ধে ম্যাচে। একাধিক ডিফেন্ডারকে কাটাতে গিয়ে একাধিকবারই ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। তবে স্লট ও লিভারপুল স্টাফের জন্য এটি কোনো বড় সমস্যা নয়। তারা এমন একজন আক্রমণাত্মক খেলোয়াড়কে চান যে ঝুঁকি নিতে ভয় পায় না।
গত গ্রীষ্মে এনফিল্ডে যোগ দেয়ার পর থেকেই এনগুমোয়ার ব্যাপারে কথা শোনা যাচ্ছিল। এত বেশি মিডিয়া হাইপের সঙ্গে যোগ করা যায় চেলসির তাকে ধরে রাখার তীব্র আগ্রহ। তিনি যে একজন বিশেষ প্রতিভা, তা বলে দেয়াটা খুব বেশি বিপজ্জনক না।
যেকোনো তরুণ খেলোয়াড়ের মতোই তার ওপর অতিরিক্ত চাপ দেয়া ঝুঁকিপূর্ণ হলেও এনগুমোয়াকে নিয়ে রোমাঞ্চিত না হয়ে উপায় নেই। এনফিল্ডে এখন অনেকেই মনে করছেন, রাহিম স্টার্লিংয়ের পর এনগুমোয়াই ক্লাবের সবচেয়ে প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ আক্রমণভাগের খেলোয়াড়। লিভারপুল তার বিকাশে কোনো তাড়াহুড়ো করবে না। তবে লুইস দিয়াজ এ গ্রীষ্মে বায়ার্ন মিউনিখে চলে যাওয়ায়, লেফট উইংয়ে এনগুমোয়ার জন্য খেলার অনেক সুযোগ তৈরি হতে পারে। সেক্ষেত্রে, আতশ কাঁচও তাকে খুঁজে নিতে ভুল করবে না।তে যেতে পারেন। (মোজাম্মিল হোসেন)